দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় কবরস্থান-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শতাধিক পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করার অভিযোগ উঠেছে। মাইকিং করে ওই পরিবারগুলোর কাছে কোনো দোকানদারকে পণ্য বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), রৌমারী থানা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের হাজিরহাট ও বালুর গ্রামে প্রায় দুই বছর আগে একটি কবরস্থানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জেরে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। সম্প্রতি হাজিরহাট বাজারে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে শতাধিক পরিবারকে একঘরে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বৈঠকের পর মাইকিং করে ঘোষণা দেওয়া হয়, কোনো দোকানদার যেন ওই পরিবারগুলোর কাছে কোনো ধরনের পণ্য বিক্রি না করেন। নির্দেশ অমান্য করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। একই সঙ্গে ওই পরিবারগুলোর সঙ্গে সামাজিকভাবে মেলামেশা করলেও একই ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী আজিজুল হক বলেন, তাদের পরিবারের এই বিরোধের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও একই গোষ্ঠীর হওয়ায় একঘরে করা হয়েছে। এর পর থেকে তাদের বাড়িতে ঢিল ছোড়া হয়েছে এবং স্থানীয় দোকানদাররাও পণ্য বিক্রি করছেন না।
আরেক ভুক্তভোগী আকতার হোসেনের অভিযোগ, তারা কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। বাড়ি থেকে বের হলে লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করা হয়। এমনকি শিশুদের কাছেও দোকান থেকে কোনো পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, হাট ইজারাদার ও বাজার কমিটির সিদ্ধান্ত অমান্য করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই তারা নির্দেশ মেনে চলছেন।
তবে হাট ইজারাদার আসাদুজ্জামান বলেন, কবরস্থান নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো তা না মানায় তাদের ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম মিঠু বলেন, তারা বাজার কমিটির সিদ্ধান্ত না মানায় তাদের কাছে পণ্য বিক্রি না করতে বলা হয়েছে।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে। স্থানীয়ভাবে সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, জমি বা কবরস্থান-সংক্রান্ত বিরোধ আদালতের বিষয়। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাউকে হাট-বাজারে বয়কট বা সামাজিকভাবে একঘরে করার অধিকার নেই। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যে আই